দাঁতের কালো দাগ দূর করবেন যেভাবে How to remove black spots on teeth

দাঁতের কালো দাগ কিভাবে দূর করা যায়?



দাঁতের কালো দাগ দুর করার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় জেনে থাকা প্রয়োজন। মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন অনেক সুন্দর সেই সুন্দর অংশের মধ্যে দাঁত সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ। সুন্দর দাঁত সুন্দর হাসি সকলেই ভালোবাসি। অনেক কারণে দাঁতের মধ্যে কালো দাগ সৃষ্টি হয়ে গেলে সুন্দরভাবে হাঁসতেও পারি না। কালো দাগের জন্য কারো সামনে মুখ নিয়ে ভালোভাবে কথা বলাও অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং অনেক বড় লজ্জার বিষয় হয়ে পড়ে । কি কি কারণে দাঁতে কালো দাগের সৃষ্টি হয় এবং কালো দাগ উঠানোর সহজ উপায়গুলো নিচে সুন্দরভাবে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারবেন।


স্কেলিং 


দাঁত স্কেলিং করলে দাঁতের মধ্যে থাকা হলুদ দুর হয়ে যায়, একবারের বেশি দাঁত স্কেলিং না করায় ভালো। এতে করে দাঁতের দাঁতের অ্যানামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।



দাঁতের মাড়ি কালো হয় কেন

ধূমপান 


ধূমপান একমাত্র সুন্দর দাঁতকে কালো দাগ ফেলতে সহায়তা করে। অনেক ব্যক্তি আছে সারাদিনে অনেকবার সিগারেট খেয়ে থাকেন সিগারেট খাওয়ার ফলে সে সব ব্যক্তিদের ঠোঁটে ও মাড়িতে কালো দাগ সৃষ্টি হয়, তবে জন্মগত দিগ থেকে অনেক মানুষের ঠোঁট ও মাড়ি কালো হয়ে সে সব ব্যক্তিদের ছাড়াই বলা হয়েছে। অনিয়মিত ধূমপানের কারণে সুন্দর মুখের সুন্দর হাসি নষ্ট হয়ে যায়। ধুমপান করার কারণে পুরো কালো হওয়ার পরিবর্তে দাঁতে লম্বা গাঢ় দাগ সৃষ্টি হয়। এ সব দাগের কারণে অনেক সময় ক্যান্সারের লক্ষণ তৈরী হতে পারে। এ সব দাগ বা চিহ্ন দেখতে পাওয়া গেলে দাঁতের যত্নবান হওয়া জরুরী।

ঔষধ ব্যবহারের ফলে

কিছু ওষুধ যেমন- অ্যান্টি-ডিপ্রেশনস, ম্যালেরিয়ার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকগুলো দাঁতকে অনেক কালো করে ফেলে। যখন দাঁতে কালো দাগের সৃষ্টি হওয়া দেখতে পাবেন কালো অংশ দুর করার জন্য কোনো ঔষধ শ্রবণের মাধ্যমেও দাঁত কালো করে দিচ্ছে, এ রকম সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


জিঙ্গিভাইটিস এর কারণে

দাঁতের রোগ হলে "অ্যালসারেটিভ জিঙ্গিভাইটিস" বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হলে বুঝবেন দাঁত সংক্রমণ এর সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে মাড়ির ফুলে গিয়ে ব্যথার সৃষ্টি হবে, এর ফলে মুখে অনেক দুর্গন্ধের সমস্যা তৈরী হবে । এ সব সমস্যায় সংক্রমণ হওয়ার কারণে মাড়িতে থাকা টিস্যু মারা যেতে পারে। সে কারণেও মাড়ীর রং কালো হতে যেতে পারে। যদি জিঞ্জিভাইটিসের সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া খুব জরুরী। এ সব সমস্যা দাঁতকে সারা জীবনের জন্য কালো দাগে রুপান্তর করতে পারে।

দাঁতের কালো দাগ দূর করার উপায়

ব্রাশ 


প্রতিদিন ঘুম থেকে সকালে ও রাতে ঘুমানোর পূর্বে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। দিনে একবার দাঁত ব্রাশ করলে হবে না রাতে অবশ্যই ঘুমানোর পূর্বে দাঁত ব্রাশ করে ঘুমানো প্রয়োজন। সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন মিনিট দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। এ সময়টুকু ব্রাশ করার পর পানি দিয়ে ভালো ভাবে মুখ ও দাঁত কুলকুচি করে ধুয়ে ফেলতে হবে।


ফ্লস 


প্রতিদিন খাওয়ার পরে নিম্নে রাতে একবার দাঁত ফ্লস করতে পারেন অনেক সময় দেখা যায় দাঁতের মধ্যে ফাঁকা অংশে জমে থাকা খাদ্যকণা ঢুকে থাকে তা ফ্লস করে পরিস্কার করতে পারেন।

যেকোনো খাবার হোক না কেন যেমন মিষ্টি জাতীয় খাবার সহ চকলেট, চুইংগাম, কেক, ফাস্টফুড খাওয়ার পরে অবশ্যই পানি মুখে ভালোভাবে দিয়ে কুলকুচি করা বেশি জরুরী।



লেবুর খোসা 


লেবু সব বাড়িতেই প্রায় খাওয়ার তালিকায় থাকে সেক্ষেত্রে দাঁতের সমস্যার কারণে লেবু অনেক উপকারী। বাড়ীতে খাবারের তালিকা থাকা লেবুর খোসা দুই-তিন দিন রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর মিক্সিতে অথবা বেটে ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেই লেবুর গুড়ো একটি পরিষ্কার পাত্রের মধ্যে রাখতে হবে। তারপর লেবুর গুড়ো দুই থেকে তিন চামুচ গুঁড়ো নিতে হবে।

লেবুর গুঁড়োতে কম করেও এক চামচ গরম পানি ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। সঠিক ভাবে মেশানো হয়ে গেলে পেস্ট এর সাথে দাঁত মাজতে হবে। লেবুর গুড়ো সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন দাঁত পরিস্কার করতে হবে। লেবুর খোসার সঠিক গুণাগুণ দাঁতের অনেক যত্ন নিতে সহায়তা করে। লেবুর খোসায় থাকা ব্লিচিং প্রপার্টিস দাঁতের হলুদ দাগ তুলতে অনেক সাহায্য করে।

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার 

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে অনেক উপাদান সমৃদ্ধ। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার দাঁতের মধ্যে ফাঁকা অংশে জমে থাকা খাদ্য কণ জীবাণু তৈরী হলে মেরে ফেলতে পারে খুব দ্রুত। সেই সাথে হলুদ ভাব খুব তাড়াতাড়ি দূর করে দিতে পারে। প্রত্যেক সপ্তাহে দুই দিন অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের সাথে পানি মিশিয়ে দিয়ে ভালোভাবে কুলকুচি করতে হবে। 

ব্যবহারের পূর্বে মাত্র এক চামুচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার নিতে হবে। তার সাথে তিন চামুচের মতো পানি ভালোভাবে মেশানো প্রয়োজন হবে। ঠিক এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে মাউথ ওয়াশ। প্রত্যেকদিন মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ভালোকরে কুলকুচি করতে হবে।

বেকিং সোডা 


বেকিং সোডা দাঁত সাদা করতে অনেক কাজ করে। এক চিমটি পরিমাণে বেকিং সোডার সাথে পরিমাণ অনুযায়ী পেস্ট মিশিয়ে তৈরি করতে হবে। পেস্টের সাথে মেশানো হয়ে গেলে দাঁত ব্রাশে করতে পারবেন। নিয়মিত এ পদ্ধতিতে ব্যবহার করে ব্রাশ করলে দাঁতের মধ্যে থাকা কালো ভাব দূর হয়ে যাবে। তবে প্রত্যেক দিন করা যাবে না। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন করলেই চলবে।

এ রকম ভাবে ব্যবহার করলে অনেক প্রকার ব্যাকটেরিয়াগুলিও থাকার কোন প্রকার সুযোগ পাবে না। এর ফলে দাঁতের কোন প্রকার রোগ হওয়ার সম্ভবনা হবে না বলে চলে।



নারকেল তেল 


নারকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিড রয়েছে। নারকেল তেলের অ্যাসিড মুখের ভিতরে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সাহায্য করে। এর ফলে প্ল্যাকের মতো সমস্যা তাড়াতাড়ি দূর করে। সেক্ষেত্রে দাঁত অনেক সুন্দর থাকে। নারকেল তেল ব্যাবহার করার জন্য কোন প্রকার পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না।

একদম দুই থেকে তিন চামুচ নারকেল তেল মুখে নিয়ে চার থেকে পাঁচ মিনিট কুলকুচি করতে হবে ।  দাঁত ভালো রাখতে প্রত্যেকদিন এভাবে নারকেল তেল দিয়ে কুলকুচি করলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যাবে।

তিল 


তিল ব্যবহারের পদ্ধতি হল, চার চামচ তিল ভালো করে বেটে তৈরি করে নিতে হবে পেস্ট। সেই পেস্ট দিয়ে সপ্তাহে অন্তত চার দিন দাঁত মাজলে হলদে ভাব দূর হবে। সেই সঙ্গে উন্নতি হবে এনামেলের গঠনেও। ফলে দাঁত কালচে দেখার আশঙ্কা থাকবে না। এটি গেল একটি পদ্ধতি। তা ছাড়াও অল্প তিলের তেল মুখে নিয়ে কুলকুচি করলেও উপকার পাওয়া যায়।

নিমের দাঁতন 


দাঁত অতি যত্নের অন্যতম সুপরিচিত হচ্ছে নিমের দাঁতন। প্রাচীন কাল থেকে মানুষ নিমের দাঁতন ব্যবহার করে আসছে। নিমের ডালে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। নিমের দাঁতন ব্যবহার করলে দাঁতের ক্যাভিটির জনিত সমস্যা দূরে হয়ে যায়। সেই সাথে মুখের অবার্ন্তগত দুর্গন্ধও দূর হয়ে হয়। 
দুর্গন্ধ সহকারে দূর হয় দাঁতের কালচে ভাব। দাঁতের মাড়ি সহ যে কোনো প্রকার সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থেকে কমে যায়। নিমের ডাল রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে পাউডার তৈরী করে দাঁত মাজার জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করাও সম্ভব হতে পারে। সেক্ষেত্রে এর উপকার একই হয়ে থাকে

কলার খোসা 


দাঁতের যত্নে বৃহত্তম উপকারী উপাদান হচ্ছে কলার খোসা। পুরো একটি কলার খোসা নিয়ে ভেতরের সাদা অংশটুকু দুই মিনিট দাঁতে ভালভাবে ঘষতে হবে, এক থেকে দুই সপ্তাহ দাঁতের যত্ন নিলে কাল দাগ এবং হলুদ ভাব দূর হবে।

একটি বড় বিষয় হল কলার খোসা ছাড়ানোর পরই ব্যবহার করতে হবে। তাহলে অনেক বেশি উপকার পাওয়া যাবে। তাছাড়া কয়েক দিন পরে কলা থেকে ছড়ানো খোসা ব্যবহার করলে কোন উপকার পাওয়া যাবে না।


মধু 


দাঁতের অতি যত্নের তালিকা রয়েছে মধু। দাঁত মাজার জন্য চার থেকে পাঁচ চামুচ মধুর সাথে দুই চামুচ ভিনিগার ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মধু ও ভিনিগার মিশ্রণ যুক্ত দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। প্রতিদিন এ নিয়ম করলে অল্প দিনের মধ্যে দাঁতের হলুদ এবং কাল ভাব দূর হয়ে যাবে। সাথে দাঁতের মাড়িতে কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকবে না।

পুদিনা পাতা 


প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে খাওয়া পর টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজার পর পুদিনা পাতার ব্যবহার করতে হবে। পরিমাণমত পুদিনা পাতা ভালোভাবে বেটে দাঁতে ও মাড়িতে ঘষলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে। দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া অতি তাড়াতাড়ি মারা যাবে।

দাঁতের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা দূরে থাকবে। এরকমভাবে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে দাঁতে থাকা হলুদ ভাব ও কালো দাগ চলে যাবে পূর্বের সাদা ভাব পুনরায় চলে আসবে।

লবঙ্গ ও লবণ 


বর্তমানে কিছু টুথপেস্টে এ লবঙ্গ আর লবণ রয়েছে দাবি করা হচ্ছে। বিষয় হলো দাঁত সুস্থ রাখার এ দুইটির ব্যবহারে কোনো তুলনা হয় না। দাঁত যত্নে লবঙ্গ তেলের ব্যবহার বহু প্রাচীন কাল ধরেই হয়ে আসছে। তেমনই কাঁচা লবঙ্গও খুবই উপকারী। লবঙ্গের সঙ্গে লাগবে নুন। এই দুই দাঁতের হলুদ দাগ-ছোপ দূর করে। তার জন্য প্রথমে লবঙ্গ গুঁড়ো করে নিতে হবে।

সেই গুঁড়ো থেকে এক চামচ নিয়ে তাতে সম পরিমাণ অর্থাৎ এক চামচ নুন মিশিয়ে নিতে হবে হবে। এ বার তা দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। নিয়মিত এই ভাবে দাঁতের যত্ন নিতে হবে। তা হলে দাগমুক্ত ঝকঝকে দাঁত পাওয়া যাবে।



টমেটো 


সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন টমেটো রস অথবা টুকরো দিয়ে ভালোভাবে দাঁত মাজতে থাকুন। টমেটোতে স্বাভাবিকভাবে ব্লিচ এর পরিমাণ থাকে। যা দাঁতের কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে।


মন্তব্যসমূহ